Brief on Bilateral Relations দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

ভারতীয় হাই কমিশন

ঢাকা

*** 

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ভারত এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পরপরই ভারত বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মূলে রয়েছে ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা,মানুষে মানুষে বন্ধন, অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্রের অভিন্ন মূল্যবোধ এবং অনেক অগণিত বিষয়ে সাদৃশ্য। এ সম্পর্কের ভিত্তি সার্বভৌমত্ব, সমতা, বিশ্বাস, সমঝোতা এবংঅংশীদারিত্ব যা কৌশলগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। গত কয়েক বছরে নতুন নতুন ও উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।

উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়

দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সফর এবং বিনিময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও নিয়মিত মন্ত্রী পর্যায়ের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২০১৫ সালের ৬-৭ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশ আসেন। সফরকালে ভারত-বাংলাদেশ স্থল সীমান্ত চুক্তি (এলবিএ) অনুমোদনের দলিল বিনিময় ও ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিতীয় ঋণচুক্তিসহ ২২টি দ্বিপাক্ষিক দলিলচূড়ান্তকরণ হয়।

বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ০৭-১০ এপ্রিল ভারত সফর করেন। সফরকালে বিভিন্ন বিষয়ে ৩৬ টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ, তথ্য প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, সক্ষমতাঅর্জন ইত্যাদি। ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৃতীয় ঋণরেখাও (এলওসি) বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয শহীদদের সম্মানে অনুষ্ঠিতস্মরণোৎসবে দুই প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। এই সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা২০১৬ সালের ১৬-১৭ অক্টোবর ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য ভারত সফর করেন।

বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নয়াদিল্লীতে আন্তর্জাতিক সৌরজোটের প্রতিষ্ঠা সম্মেলনে (১১ মার্চ ২০১৮) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি গুয়াহাটি (আসাম) এবং শিলং, বালাত (মেঘালয়) ভ্রমণ করেন (৮-১০ মার্চ ২০১৮)যেখানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অবস্থান করেছিলেন।

বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫-২৬ মে ২০১৮ পশ্চিম বাংলা সফর করেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনেঅংশ নেন। আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডি. লিট প্রদান করে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৫-২৭ জুন ২০১৪ বিদেশমন্ত্রী শ্রীমতি সুষমা স্বরাজ এবং ২৪ আগস্ট ২০১৪ বিদেশ প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ভি.কে. সিং সর্ব প্রথম বৈদেশিক সফরে বাংলাদেশ আসেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসেরাইসিনা সংলাপে অংশ নিতে ভারত ভ্রমণ করেন।

২০১৩ সালের মার্চে সাবেক রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশ সফর করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বৈদেশিক সফর। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মাননীয় রাষ্ট্রপতি জনাব আবদুল হামিদ প্রথম ভারত সফর করেন যা দীর্ঘ ৪২ বছর পরেবাংলাদেশের কোন রাষ্ট্রপ্রধানের আনুষ্ঠানিক সফর।

৮-১০ এপ্রিল ২০১৮ মাননীয় বিদেশ সচিব বাংলাদেশ সফর করেন। ভারতের মাননীয় গৃহমন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং ১৫ জুলাই ২০১৮ বাংলাদেশ সফর করেন এবং বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে একটি সমন্বিত ও অত্যাধুনিক ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

মাননীয় বাণিজ্য, শিল্প ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী শ্রী সুরেশ প্রভু ২৪-২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান/সরকার প্রধান পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সফর সমূহের তালিকা হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে (https://hcidhaka.gov.in/Bilateral_Visits ) দেয়া আছে ।

দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াসমূহ

নিরাপত্তা, ব্যবসায় ও বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহণ ও যোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, নদী ও সামুদ্রিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৬০টিরও বেশি দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। পররাষ্ট্র / বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়কমন্ত্রীদের নেতৃত্বাধীন একটি যৌথ পরামর্শদাতা কমিশন (জেসিসি) দুই দেশের মধ্যে গৃহীত উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা বিষয়ে তদারকি করে। ২২ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে ঢাকায় ৪র্থ জেসিসি অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালথেকে দু'দেশের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া এবং দলিলসমূহের তালিকা হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে রয়েছে।

নিরাপত্তা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা

ভারত ও বাংলাদেশের ৪০৯৬.৭ কিমি সীমান্ত রয়েছে যা কোন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ভারতের ভাগ করে নেয়া দীর্ঘতম স্থল সীমানা। ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারত-বাংলাদেশ স্থল সীমান্ত চুক্তি (এলবিএ) অনুমোদনের নথি বিনিময়ের পর চুক্তিটি কার্যকরহয় । ৩১ জুলাই ২০১৫ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহলগুলোর বিনিময় হয় এবং স্ট্রিপ মানচিত্র স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ নভেম্বর ২০১৫ ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী পূর্ববর্তী ছিটমহলগুলোর বাসিন্দাগণ ভারতে চূড়ান্তভাবে পাড়ি জমান।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তি (অপরাধমূলক বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা; সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের স্থানান্তর, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, অপরাধ ও অবৈধ মাদকদ্রব্য পাচার মোকাবেলা, জাল মুদ্রানোট ও মানব পাচার রোধ এবং বন্দী বিনিময় চুক্তি)সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য উভয় দেশ ও কার্যকরী গ্রুপের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সীমান্তে অবৈধ কার্যক্রম ও অপরাধ দমনে এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে ২০১১ সালে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি)স্বাক্ষরিত হয়।

৭ জুলাই ২০১৪ ইউএনসিএলওএস এর রায় অনুসারে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সমুদ্রসীমা মামলা নিষ্পত্তি বঙ্গোপসাগরের এই অংশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করেছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করার ও বিজয় অর্জনের ঐতিহাসিক অংশীদার ভারত ও বাংলাদেশ। তিন বাহিনীর কর্মীদের বার্ষিক সভা পরিচালনা করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলোকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে। ভারত প্রতি বছরবাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করে। সেনা (সম্প্রীতি মহড়া) এবং নৌবাহিনীর (মিলন মহড়া) বিভিন্ন যৌথ মহড়া দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।ভারত সরকার প্রতি বছর মুক্তিযোদ্ধা উত্তরাধিকারীদের উচ্চ মাধ্যমিক এবংস্নাতককোত্তর পর্যায়ে বৃত্তি প্রদান করে থাকে। ঢাকা ও কলকাতায় বিজয় দিবস পালনের লক্ষ্যে প্রতিবছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশী এবং ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধাদের বিনিময়মূলক সফর অনুষ্ঠিত হয়।

নদীর পানি বণ্টন

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪ টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ১৯৭২ সালের জুন থেকে একটি দ্বিপাক্ষিক যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলো থেকে প্রাপ্তসুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কাজ করছে। জেআরসি সভারপাশাপাশি (এখন পর্যন্ত ৩৭টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে) জেআরসি কারিগরি পর্যায়ের সভাগুলিও নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি ১- মে ৩১) গঙ্গার পানি বণ্টনেরজন্য ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সন্তোষজনকভাবেকার্যকর রয়েছে। চুক্তির বিধান বাস্তবায়নের জন্য গঙ্গার পানি বণ্টনের যৌথ কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম বাণিজ্য চুক্তি ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং পর্যায়ক্রমে নবায়ন করা হয়। দুইদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য সম্পর্কিত অনেক চুক্তি আছে। বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের আলোচনা, নৌপরিবহণ সচিব পর্যায়ের আলোচনা,বাণিজ্য, টেক্সটাইল, কাস্টমস, ফিশারিজ, সাব-গ্রুপ ব্যাঙ্কিং এবং অবকাঠামো ইত্যাদি বিষয়ক যৌথ কার্যকরী গ্রুপের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার অধীনে উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত বৈঠক করেন।

গত এক দশকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন বছরে (২০১৫-১৬ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে) বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ২৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৯ বিলিয়নমার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৯.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (ভারতীয়) বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে এবং বাংলাদেশ থেকেআমদানির পরিমাণ ছিল ০.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের বিস্তারিত হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে রয়েছে।

ভারত ২০১১ সাল থেকে সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া (সাফটা)-এর অধীনে বাংলাদেশ থেকে তামাক ও অ্যালকোহল ব্যতীত সকল প্রকার শুল্ক আরোপিত পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। সীমান্তবর্তী মানুষের সুবিধার্থে ত্রিপুরা(শ্রীনগর ও কমলাসাগর) এবং মেঘালয়ে (কালাই চর ও বালাত) দু’টি করে মোট চারটি সীমান্ত হাট স্থাপিত হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরও বর্ডার হাট বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) এর সাথে নিবন্ধিত মোট ভারতীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবসমূহ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং তা ক্রমবর্ধমান। গত তিন বছরে (২০১৪-২০১৭), বাংলাদেশে মোট ভারতীয় সরাসরি বৈদেশিকবিনিয়োগ (এফডিআই) ২৪৩.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে দ্বিগুণ হয়ে ৫১৬.৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করেছে তার মধ্যে রয়েছে টেলিযোগাযোগ (এয়ারটেল), ফার্মাসিউটিক্যালস (সানফার্মা), এফএমসিজি (ম্যারিকো), অটোমোবাইল (টাটা, হিরো মোটরস) ইত্যাদি। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ১৩টি চুক্তি স্বাক্ষর হয় যা ছিল প্রধানত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে ভারতীয় বিনিয়োগ বিষয়ক।

বাংলাদেশকে দেয়া ভারতের আর্থিক সহায়তা

গত ৭ বছরে ভারত বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৩টি ঋণরেখা প্রদান করেছে। যা এ পর্য‌ন্ত বাংলাদেশকে ভারতের সবথেকে বড় উন্নয়ন অংশীদার করেছে।

২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে জনপরিবহণ, সড়ক, রেলপথ, সেতু এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথ ইত্যাদি ১৪টি প্রকল্পে বাংলাদেশের জন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণরেখা (এলওসি) ঘোষণা করেছিল ভারত। এসবপ্রকল্পের বেশিরভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্টগুলো সম্পন্ন হওয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে আছে।

২০১৫ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে ২ কোটি মার্কিন ডলারের দ্বিতীয় ঋণরেখা সম্প্রসারণ করে। এই ঋণচুক্তির আওতায় সড়ক, রেলপথ, বিদ্যুৎ, নৌপরিবহণ, বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল(এসইজেড), স্বাস্থ্য ওচিকিৎসা সেবা এবং কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে ১৫টি প্রকল্প রয়েছে।

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে ভারত ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি তৃতীয় ঋণরেখা ঘোষণা করে। নতুন ঋণচুক্তির আওতায় রয়েছে বন্দর নির্মাণ, রেলপথ, সড়ক, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ওজ্বালানি, টেলিযোগাযোগ এবং নৌপরিবহণ এসব ক্ষেত্রের প্রকল্পসমূহ। তৃতীয় ঋণরেখা বাস্তবায়নের জন্য ৪ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে ভারত ও বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ডলার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ঋণরেখার পাশাপাশি ভারত সরকার "এইড টু বাংলাদেশ" প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করে। যার মধ্যে রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের তিনটি স্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্প (এসডিপি) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিলাইদহের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃকনিবাসের বর্ধিত উন্নয়ন কর্মসূচির পাশাপাশি বাংলাদেশে নির্ধারিত জেলায় ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ অংশে আগরতলা-আখাউড়ারেল সংযোগ ভারতীয় অনুদান সহায়তার সবচেয়ে বড় একটি প্রকল্প।

বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে সহায়তা

বিদ্যুৎ খাতে সহায়তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ভারত থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে দুই প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশ থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি এবং বাংলাদেশ থেকেত্রিপুরাতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি উদ্বোধন করেন। ভারত এর জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কর্পোরেশন (এনটিপিসি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর সমান অংশীদারিত্বে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। ২০১৭ সালেরএপ্রিল মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালে ভারতীয় পাবলিক/প্রাইভেট কোম্পানিসমূহ এবং বাংলাদেশ-এর মধ্যে ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন/সরবরাহ/অর্থায়ন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

গত দুই বছরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি খাতের সহযোগিতায়ও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড, পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড এর মত অনেক ভারতীয় বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশীপ্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে তেল ও গ্যাস খাতে কাজ করছে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীদ্বয় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য শিলিগুড়ি থেকে পার্বতীপুরপর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন নির্মাণের উদ্বোধনীতে অংশ নেন। ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেড অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সাথে যৌথভাবে দুটি অগভীর পানি ব্লকে অনুসন্ধান করছে।

যোগাযোগ

ভারত-বাংলাদেশ সব ধরনের পরিবহণের মাধ্যমে যোগাযোগের একটি চমৎকার উদাহরণ। সীমান্ত জুড়ে ৩৬টি স্থল শুল্ক বন্দর (এলসিএস) এবং ২টি সমন্বিত চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে সড়কপথে পণ্য চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেপেট্রাপোল-বেনাপোল আইসিপি যার মাধ্যমে ৫০% এরও বেশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পন্ন হয়, যার ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১ আগস্ট থেকে সার্বক্ষণিক এই আইসিপি পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৯৭২ সাল থেকে অভ্যন্তরীন নৌ বাণিজ্য ও ট্রানজিট সংক্রান্ত প্রটোকল (পিআইডব্লিউটিটি) চালু রয়েছে। এটি বাংলাদেশের নদীপথের আটটি বিশেষ রুট দিয়ে জাহাজ/বড় নৌকায় পণ্য পরিবহণের অনুমতি প্রদান করে। পিআইডব্লিউটিটি-এর আওতায়২০১৬ সালের জুন মাসে আশুগঞ্জ নদীবন্দর দিয়ে এবং পরবর্তীতে আখাউড়া-আগরতলা দিয়ে সড়কপরথে ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রদেশে পণ্য পরিবহণ চালু করা হয়।

২০১৫ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে স্বাক্ষরিত উপকূলীয় নৌপরিবহণ চুক্তির ফলে উভয় দেশের মধ্যে কন্টেইনার ও পণ্যবাহী জাহাজের সরাসরি চলাচল শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে, এই কাঠামোরঅধীনে কলকাতা ও পানগাঁও (যা ঢাকা থেকে প্রায় ২0 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত)-এর মধ্যে কন্টেইনার জাহাজ সেবা চালু হয়েছে।

আগের ৬টি রেল লাইন ছাড়াও, দু’টি ব্রডগেজ আন্তঃদেশীয় রেল সংযোগ দুই দেশের মধ্যে এখন চালু রয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় রাধিকাপুর-বিরল রেল সংযোগটি সর্বশেষ চালু করা হয়েছিল। এছাড়া, বাকিদু’টি নতুন রেল সংযোগে কাজ চলছে। আগরতলা ও আখাউড়া-এর মধ্যে ৭ম নতুন রেল-সংযোগে ভারত অর্থায়ন করছে। কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে 'মৈত্রী এক্সপ্রেস' এখনসপ্তাহে ৪ দিন চালু রয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রান্তিকঅভিবাসন ও শুল্ক আনুষ্ঠানিকতাসম্পন্ন ট্রেন পরিষেবাতে হয়েছে। ৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে, উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী খুলনা-কলকাতা 'বন্ধন এক্সপ্রেস' উদ্বোধন করেন। দ্বিতীয় ভৈরব ও তিতাস রেল সেতুও একই দিন উদ্বোধন করা হয়।

কলকাতা-ঢাকা, শিলং-ঢাকা এবং ঢাকা হয়ে আগরতলা-কলকাতা নিয়মিত বাস সেবা চালু রয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় ঢাকা-খুলনা-কলকাতা একটি নতুন বাস সেবা চালু হয়।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল - মোটর গাড়ি চুক্তির (বিবিআইএন-এমভিএ) মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে ঢাকা হয়ে কলকাতা থেকে আগরতলা এবং ঢাকা থেকেকলকাতা ও লখনৌ হয়ে নয়াদিল্লীতে ট্রাকে পরীক্ষামূলকভাবে পণ্য পরিবহণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত পরীক্ষামূলক বাস সেবা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল।

বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সপ্তাহে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট চলাচল করছে যা নয়াদিল্লী, কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাইকে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সাথে সংযুক্ত করেছে। বাংলাদেশ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও বিমানবাংলাদেশ এবং ভারত থেকে জেট এয়ারওয়েজ, স্পাইস জেট এবং এয়ার ইন্ডিয়া ভারত ও বাংলাদেশ এর মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি

বাংলাদেশ থেকে আগ্রহী প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, অগ্নি নির্বাপণ কর্মী, মাদক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, পরমাণু বিজ্ঞানী, শিক্ষক ইত্যাদি ব্যক্তিদের জন্য অনেক প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইটেকঅংশীদার দেশ এবং প্রায় ৮০০জন অংশগ্রহণকারী প্রতিবছর আইটেক প্রোগ্রামের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। এছাড়াও বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি বছরআইসিসিআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স)-এর মাধ্যমে শিল্পকলা,বিজ্ঞান, প্রকৌশল বিষয়ে সাধারণ কোর্স এবং সংস্কৃতি, নাটক, সংগীত, চারুকলা ও ক্রীড়া ইত্যাদির জন্য বিশেষ কোর্সে অংশগ্রহণ করার জন্য বৃত্তি প্রদান করা হয়।

সাংস্কৃতিক বিনিময়

 

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স (আইসিসিআর)-এর অধীনে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। আইজিসিসি যোগ, হিন্দি, হিন্দুস্তানি উচ্চাঙ্গ সংগীত, মণিপুরী নাচ, কত্থকএবং চারুকলা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করে থাকে। বাংলাদেশী ছাত্রদের মধ্যে এ কোর্সগুলো খুবই জনপ্রিয়। আইজিসিসির হিন্দি শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটসমূহে হিন্দি শিক্ষা দেন।

২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে আইসিসিআর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র চেয়ার প্রতিষ্ঠা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'হিন্দি' চেয়ার প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর ১০০ সদস্যেরযুব প্রতিনিধিদল ভারত ভ্রমণ করছে। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল, আইসিসিআর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উর্দু ভাষার জন্য আইসিসিআর রবীন্দ্র চেয়ার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

ভারতীয় হাই কমিশন একটি মাসিক বাংলা সাহিত্য পত্রিকা 'ভারত বিচিত্রা' মুদ্রিত সংস্করণ (১৯৭২ সাল থেকে) এবং ইলেকট্রনিক সংস্করণ (অক্টোবর ২০১৩ সাল থেকে) প্রকাশ করছে। বাংলাদেশে পত্রিকাটির ব্যাপক পাঠক রয়েছে।

ভিসা

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন এবং বাংলাদেশে সহকারী হাই কমিশনসমূহ একযোগে অন্য ভারতীয় মিশনের তুলনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ভিসা প্রদান করে। এই সংখ্যা বিভিন্নভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০১৭ সালে প্রায় ১৪ লাখ ছুঁয়েছে। বাংলাদেশে ভারতীয়ভিসার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য ১৫ জুলাই ২০১৮ ভারতের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং ঢাকায় একটি সমন্বিত অত্যাধুনিক ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভিএসি) উদ্বোধন করেন। এছাড়াও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা,ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল ও যশোরে আরো ৮টি ভিসা আবেদন কেন্দ্র রয়েছে যা বাংলাদেশী নাগরিকদের ভারতীয় ভিসা চাহিদা পূরণ করে।

বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক

বাংলাদেশে প্রায় ১০,০০০ ভারতীয় নাগরিক বসবাস করে। বাংলাদেশে ভারতীয়রা তাদের কঠোর পরিশ্রম ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার জন্য সম্মানিত এবং সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে তারা উন্নতি করছেন। বেশিরভাগ ভারতীয় নাগরিক তৈরি পোশাক(আরএমজি) সেক্টরে বা এমএনসি'র শীর্ষ পেশাজীবী হিসাবে নিযুক্ত। বাংলাদেশে প্রায় ৩০০০ ভারতীয় শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজে অধ্যয়ন করছে। প্রথম কনস্যুলার ডায়লগ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

 

১১ অক্টোবর ২০১৮