“বে অব ব্লাড” চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে হাই কমিশনারের বক্তব্য
বিবৃতি ও বক্তৃতা

“বে অব ব্লাড” চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে হাই কমিশনারের বক্তব্য

বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ ও সম্মানিত দর্শকগণ,

অত্যন্ত শুভ সন্ধ্যা,

১. মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি – বাংলাদেশের গণহত্যা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশি জনগণের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামকে তুলে ধরা মর্মস্পর্শী ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম “বে অব ব্লাড”-এর প্রদর্শনীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আজ এখানে উপস্থিত হওয়া আমার জন্য সত্যিই সম্মান এবং সৌভাগ্যের।

২. এই চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করার জন্য ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা কৃষ্ণেন্দু বোসকে এই শক্তিশালী ডকুমেন্টারিটি নির্মাণে তাঁর নিবেদিত প্রচেষ্টার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। “বে অব ব্লাড” বাংলাদেশি জনগণের অদম্য চেতনা ও ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার প্রতি তাঁদের অটল অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

৩. একটি বেদনাদায়ক অতীতের চিত্রায়নের সাক্ষী হতে এখানে একত্রিত হয়ে আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, এমন সংকটপূর্ণ মুহুর্তগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান করার এবং মোকাবিলা করার মাধ্যমেই আমরা সত্যিকার অর্থে দুই দেশের সহনশীলতা এবং আমাদের সংযোগকারী স্থায়ী বন্ধুত্বকে উপলব্ধি করতে পারি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হলো ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ ইতিহাস, যে ইতিহাস সংহতির শক্তি এবং অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানবিক মূল্যবোধের বিজয়ের উদাহরণ দেয়।

৪. এই ডকুমেন্টারিটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের আদর্শের জন্য লড়াই করা অগণিত ব্যক্তির আত্মত্যাগের কথা আমাদের কখনই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আমাদের জাতিসমূহের মধ্যে বোঝাপড়া, সহনশীলতা ও সহযোগিতার উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমে তাঁদের স্মৃতিকে সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব। “বে অব ব্লাড”-এ চিত্রায়িত ঐতিহাসিক সত্য সংরক্ষণ করে আমরা এই ধরণের নৃশংসতাকে পুনরায় ঘটতে না দেওয়া এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য নিজেদেরকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করি।

৫. ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দৃঢ় বন্ধুত্ব হলো সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার স্থায়ী চেতনার প্রমাণ। যৌথ মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষা দিয়ে আবদ্ধ আমাদের দুই দেশ অগ্রগতির অংশীদার হিসেবে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছে। নিরাময়, পুনর্মিলন ও অগ্রগতি অভিমুখে যাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং এই ধরণের ডকুমেন্টারি ফোরামের মাধ্যমেই আমাদের যৌথ ইতিহাসের উপলব্ধিকে আরও গভীর করতে পারি এবং আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে কাজ করতে পারি।

৬. আসুন আমরা মুক্ত হৃদয় ও মন নিয়ে “বে অব ব্লাড” দেখি, যাতে এর বার্তাগুলো আমাদের মধ্যে অনুরণিত হতে পারে; মানবাধিকার রক্ষা করার, ন্যায়বিচার বজায় রাখার এবং এমন একটি বিশ্বের জন্য সংগ্রাম করার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যেখানে এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি কখনই ঘটে না। একইসঙ্গে, আসুন আমরা নিশ্চিত করি যে, অতীতের সকল আত্মত্যাগকে একটি উন্নত, সহানুভূতিশীল বিশ্ব গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই।

ধন্যবাদ।