নিটোরে জয়পুর ফুট ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে ভারতীয় হাই কমিশনারের বক্তব্য Statements & Speeches

নিটোরে জয়পুর ফুট ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে ভারতীয় হাই কমিশনারের বক্তব্য

নিটোরে জয়পুর ফুট ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে ভারতীয় হাই কমিশনারের বক্তব্য

১৭ অক্টোবর ২০১৯

জনাব জাহিদ মালেক, মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী

জনাব মো. আসাদুল ইসলাম, মাননীয় সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

ডা. মো. আব্দুল গণি মোল্লা, পরিচালক, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও

পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)

অ্যাম্বাসেডর সতীশ মেহতা, অনারারি ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনস, ভগবান মহাবীর বিকলাঙ্গ সহায়তা সমিতি (বিএমভিএসএস)

 

ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ,

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এবং বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে ভারতীয় হাই কমিশন আয়োজিত কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন ক্যাম্প যৌথভাবে উদ্বোধন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমি বাংলাদেশের মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

২. মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভারত সরকারের “মানবতার জন্য ভারত” শীর্ষক উদ্যোগের আওতায় এই ক্যাম্পটি আয়োজিত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শান্তি ও অহিংসার দূত মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছি। বছরব্যাপী উদযাপনের অংশ হিসেবে, হাই কমিশন বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘে বৃক্ষরোপণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকেল র‌্যালি, মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন স্কুলে মহাত্মা গান্ধীর বিষয়ে আমাদের অফিসারদের বক্তৃতা, নিরামিষ খাদ্য উৎসব এবং মোটর র‌্যালির আয়োজন করেছে।

৩. ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য বিশ্বনেতৃবৃন্দ নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উপরে সোলার প্যানেল এবং গান্ধী পিস পার্ক উদ্বোধন করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে জাতিসংঘে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধু মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এও বলেছিলেন যে, শান্তিকামী বাঙালির উপর তৎকালীন শাসকদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি রচনা করেছিল মহাত্মা গান্ধীর দর্শন।

বন্ধুগণ,

৪. সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের সফরে ভারতে গিয়েছিলেন। তিনি দিল্লীর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অন্যতম সহ-সভাপতি ছিলেন এবং এটি বেশ স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের বিকাশ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্জনসমূহ ভারতীয় এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত আগ্রহের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে এটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে ভারত সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের সাথে আমাদের ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক, সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আমরা উপভোগ করি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে আমরা বাংলাদেশের সাথে ছিলাম এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নকে সত্যি করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।

৫. ভারত বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। আপনারা সকলেই জানেন যে, প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশী নাগরিক চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার জন্য, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক ভারত সরকারের উচ্চ-প্রভাব সম্পন্ন কমিউনিটি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নির্মিত হয়েছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী এই বছরের মার্চ মাসে যৌথভাবে এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলির উদ্বোধন করেছিলেন। ভারতীয় ঋণচুক্তির অধীনে আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু প্রকল্পও রয়েছে।

ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ,

৬. বিএমভিএসএস বাংলাদেশে চতুর্থ বারের মত কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন ক্যাম্প পরিচালনা করছে। বিএমভিএসএস ভারতের জয়পুরভিত্তিক একটি সংস্থা যা চলাচলের প্রতিবন্ধকতা, পোলিও এবং দুর্ঘটনা ও অন্যান্য রোগের কারণে অঙ্গহানি হওয়া মানুষদের নতুন জীবন দিতে এই সাশ্রয়ী জয়পুর ফুট তৈরি করেছে।

৭. বিএমভিএসএসের তাৎপর্য হল এরা দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের গুরুত্ব দেয় এবং কোনও বৈষম্য ছাড়াই কৃত্রিম অঙ্গ, ক্যালিপার্স এবং অন্যান্য সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করে। এই সংস্থার জনহিতকর কাজের মাধ্যমে ভারত এবং সারা বিশ্বের ১.৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছে। বিএমভিএসএস বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, ডোমিনিকান রিপাবলিক, হন্ডুরাস, নেপাল, পাকিস্তান, সোমালিয়া, সুদান, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম এবং অন্যান্য দেশে ক্যাম্প পরিচালনা করেছে।

৮. আমি জেনে খুব খুশি হয়েছি যে, এই ক্যাম্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫০০ জন অঙ্গহীন মানুষ উপকৃত হবেন। ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মঈন ফাউন্ডেশনের সহায়তায় অনুষ্ঠিত ক্যাম্পের মাধ্যমে পুনর্বাসিত ২২৯০জনের বাইরে এই ৫০০জন সেবা পাবেন। এটি মানবতার সেবামূলক ক্যাম্প এবং আমি নিটোর ও বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের সহায়তা ও ক্যাম্পের জন্য স্থান বরাদ্দ দেয়ার জন্য। আমরা বিএমভিএসএস এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রী ডি. আর. মেহতার নেতৃত্বে তাদের সামাজিক অঙ্গীকার ও তাদের কয়েক দশকের নিরন্তর পরিশ্রমকে স্বীকৃতি জানাই।

৯. আজকে যারা এখানে উপকৃত হয়েছেন, আমি তাদের সদ্যপ্রাপ্ত সুবিধা ব্যবহার করে আত্মসম্মান ও মর্যাদাময় জীবন যাপনের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কামনা করি।

ধন্যবাদ সবাইকে।

 

****