জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় হাই কমিশনারের বক্তব্য বিবৃতি ও বক্তৃতা

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় হাই কমিশনারের বক্তব্য

মাননীয় মোজাম্মেল হক,

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়,

মো: রশিদুল আলম, সভাপতি, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি,

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ:

 

১. বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধা ও সংহতির সাথে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই মর্মান্তিক রাতে ঘাতকের গুলির শিকার হওয়া বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং নির্ভীক মানুষদের স্মৃতিকে স্মরণ করে ও সম্মান জানিয়ে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে, আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।

২. জাতীয় শোক দিবস বাংলাদেশের মানুষের ইতিহাস ও হৃদয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে। এই দিনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমর্থন করা মূল্যবোধ ও আদর্শ – গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিফলন, স্মরণ ও পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার দিন। তাঁর অদম্য চেতনা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং তাঁর জনগণের কল্যাণের জন্য অটল নিবেদন কেবল বাংলাদেশের সীমানার মধ্যেই নয়, এই বাইরেও বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

৩. বঙ্গবন্ধু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সূচনা করেছিলেন। আজ, আমরা যখন তাঁর পরম্পরাকে সম্মান জানাতে একত্রিত হয়েছি, এটা স্বাভাবিক যে আমরা আমাদের যৌথ ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার দৃঢ় বন্ধনকে পুনঃনিশ্চিত করি, যা সময়ের পরীক্ষায় টিকে আছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের যৌথ সংগ্রাম এবং আমাদের জনগণের আত্মত্যাগ সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার অটুট বন্ধন তৈরি করেছে যা টিকে থাকবে।

৪. বাংলাদেশ আজ অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে রয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর একটি স্থিতিশীল, প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশের জনগণের পাশে ভারত একটি অবিচল অংশীদার হিসেবে রয়েছে। বাণিজ্য, সংযোগ, নিরাপত্তা ও মানুষে-মানুষে বন্ধনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার ক্রমাগত বিকাশ ঘটছে, যা অভিন্ন লক্ষ্য ও যৌথ মূল্যবোধে একত্রিত দুটি জাতি হিসেবে আমাদের অবস্থানকে সুসংহত করছে।

৫. এই দিনটিকে স্মরণ করার সময়, আসুন আমরা কেবল অতীতকেই স্মরণ না করে বরং বর্তমানকেও প্রতিফলিত করি এবং আশা ও সম্ভাবনায় পূর্ণ ভবিষ্যতের কল্পনা করি। আসুন, আমরা চরমপন্থা, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়াই এবং এমন একটি বিশ্বের লক্ষ্যে কাজ করি যেখানে ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার আদর্শ বিরাজ করে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ও তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকালে আমরা ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ভিত্তি হিসেবে রয়ে যাওয়া ১৯৭১ সালের পরম্পরা ও চেতনার সংরক্ষণ ও প্রচারে বাংলাদেশের সাথে একসাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটাই হবে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরম্পরার প্রতি আমাদের সর্বকালের সেরা শ্রদ্ধাঞ্জলি।

৬. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি আমাদের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার পথচলাকে অব্যাহত রাখুক।

৭. আমার চিন্তাধারা আপনাদের সাথে সহভাগিতা করার এই সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতিকে ধন্যবাদ জানাই।

আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ।

জয় হিন্দ, জয় বাংলা, ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক!