গান্ধী জয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায়  হাই কমিশনারের বক্তব্য বিবৃতি ও বক্তৃতা

গান্ধী জয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় হাই কমিশনারের বক্তব্য

গান্ধী জয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তব্য

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের,

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ,

 ১.  আমাদের যৌথ ইতিহাসের প্রেক্ষাপটেই শুধু নয়, আমরা আজ যে বিশ্বে বসবাস করি সেখানেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়ের ওপর আমি আজ এখানে এই তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।

 ২.  আজকের প্রসঙ্গ, "নোয়াখালীতে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য গান্ধীজীর অনুসন্ধান এবং এই সমসাময়িক বিশ্বে এর প্রাসঙ্গিকতা," আমাদেরকে আমাদের যৌথ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যখন মহাত্মা গান্ধী এমন একটি লক্ষ্যে যাত্রা করেছিলেন যা আমাদের বর্তমান সময়েও গভীরভাবে অনুরণিত হয়।

 ৩.  ১৯৪৬ সালে, ভারতকে বিভক্তির পথে নিয়ে যাওয়া উত্তাল সময়কালে, বর্তমান বাংলাদেশের নোয়াখালী ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সাক্ষী হয়। এই অশান্তির মধ্যেই গান্ধীজি, অহিংসা ও মানবতার একতায় গভীর বিশ্বাসে অনুপ্রাণিত হয়ে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তা "নোয়াখালি মার্চ" নামে পরিচিতি লাভ করেছিলো।

 ৪.  নোয়াখালীতে গান্ধীজির উপস্থিতি কেবল একটি প্রতীকী কাজই ছিল না, বরং শান্তি ও ঐক্যের প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকারের একটি শক্তিশালী প্রদর্শনও ছিল। তিনি দুর্ভোগের মাঝে পথ হেঁটেছিলেন, হিন্দু ও মুসলমান উভয়ের কাছে পৌঁছেছিলেন, তাদেরকে আহ্বান জানিয়েছিলেন অস্ত্র পরিত্যাগ এবং অহিংসার পথ গ্রহণ করার জন্য।

 ৫.  তাঁর বার্তাটি ছিল সরল অথচ গভীর - ঘৃণা ও সহিংসতার মুখে ভালোবাসা ও সহানুভূতিই সবচেয়ে ক্ষমতাশালী অস্ত্র। তিনি ক্ষত ঠিক করতে চেয়েছিলেন, বিভেদ দূর করতে এবং ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে অতিক্রম করে মানবতার বোধকে পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন।

 ৬.  নোয়াখালীতে গান্ধীজীর প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংলাপ, সহমর্মিতা ও বোঝাপড়ার অসাধারণ গুণের উদাহরণ দেয়। অহিংসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নীতির প্রতি তাঁর অদম্য নিবেদন শুধু নোয়াখালীকে শুধু স্বস্তিই দেয়নি, মানবতার বিবেকের ওপর একটি অমোচনীয় চিহ্নও রেখে গেছে।

 ৭.  আজ, আমরা নিজেদেরকে এমন এক বৈশ্বিক অবস্থানে খুঁজে পাই যেখানে জাতির অভ্যন্তরে ও জাতিসমূহের মধ্যে অবিরাম দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। ধর্মীয়, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বিভাজন সমাজের কাঠামোকে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন করে চলেছে। এমন সময়ে, নোয়াখালীতে গান্ধীজির দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের দ্বন্দ্ব নিরসন করে, সহানুভূতি ও স্থায়ী শান্তির অন্বেষণে মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করার মাধ্যমে পথপ্রদর্শক আলো হিসেবে কাজ করে।

 ৮.  মতবিরোধে প্লাবিত বিশ্বে, গান্ধীজির নীতিগুলো আশার বাতিঘর হয়ে রয়েছে। মানবতার সহজাত মঙ্গলের প্রতি তাঁর বিশ্বাস, পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে অহিংসার প্রতি তাঁর অটল আস্থা এবং ধর্ম ও জাতীয়তার সীমানা অতিক্রম করার ক্ষমতা আজও ততটাই প্রাসঙ্গিক, যেমনটি তখন ছিল।

 ৯.  আসুন, আমরা এমন পরিবেশ গড়ে তুলে উন্মুক্ত সংলাপে অংশগ্রহণ করি, যেখানে বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রের কণ্ঠস্বর শোনা যায় ও সম্মানিত হয়, । আসুন, আমরা অভিন্ন ভিত্তি খুঁজতে এবং বোঝাপড়ার সেতু নির্মাণ করতে বিভক্তিসমূহকে অতিক্রম করে যাই। এবং আসুন, গান্ধীজির মতো আমরাও সেই মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস করি, যা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে একত্রিত করে।

 ১০.  পরিশেষে বলা যায়, নোয়াখালীর শিক্ষা ইতিহাসের বইয়ে সীমাবদ্ধ নয়; তারা ঘৃণাকে অতিক্রম করে ভালোবাসার স্থায়ী শক্তি, বিভাজনকে পেরিয়ে ঐক্যের একটি জীবন্ত প্রমাণ। আসুন, আমরা গান্ধীজীর মহৎ প্রচেষ্টা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করি এবং এমন একটি বিশ্বের লক্ষ্যে কাজ করি যেখানে শান্তি ও সম্প্রীতি বিরাজ করে।

আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

জয় হিন্দ, জয় বাংলা

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী দীর্ঘজীবী হোক