“ছিন্নপত্র” চলচ্চিত্রের স্ক্রিনিং উপলক্ষ্যে হাই কমিশনারের বক্তব্য বিবৃতি ও বক্তৃতা

“ছিন্নপত্র” চলচ্চিত্রের স্ক্রিনিং উপলক্ষ্যে হাই কমিশনারের বক্তব্য

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিশিষ্ট দর্শকমণ্ডলী, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

নমস্কার ও শুভ সন্ধ্যা,

১. ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাতে পেরে আমি গৌরবান্বিত বোধ করছি। আজ রাতে, আমরা মহান কবি ও দার্শনিক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ও পরম্পরার প্রতি সিনেমাটিক শ্রদ্ধাঞ্জলি "ছিন্নপত্র: পদ্মা পাড়ে রবীন্দ্রনাথ" চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো-এর জন্য একত্রিত হয়েছি।

২. আমি শুরুতেই জনাব চঞ্চল খানের প্রশংসা করতে চাই। তাঁর আত্মনিবেদন ও শৈল্পিকতা আমাদের সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশিষ্ট ব্যক্তি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরম্পরাকে জীবন্ত করে তুলেছে। জনাব চঞ্চল খান সাহিত্য, সঙ্গীত ও দর্শনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসামান্য অবদানের সারাংশকে দক্ষতার সাথে একত্রে বুনেছেন। তিনি শৈল্পিকভাবে একটি চাক্ষুষ আখ্যান নির্মাণ করেছেন যা শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরাট কৃতিত্বকেই উদ্‌যাপন করে না বরং সেই মানুষটির আত্মার ভেতরটাকে স্পষ্ট দেখার সুযোগ প্রদান করে।

৩. গুরুদেব নামে সুপরিচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন স্বপ্নদর্শী, যাঁর প্রভাব সীমানা ও প্রজন্ম অতিক্রম করে। তাঁর প্রগাঢ় চিন্তাভাবনা, কাব্যিক প্রতিভা ও শৈল্পিক প্রচেষ্টাসমূহ মানবতাকে অনুপ্রাণিত ও সমৃদ্ধ করে চলেছে। সাহিত্য, সঙ্গীত ও দর্শনে তাঁর অবদান বিশ্বে একটি অমোচনীয় চিহ্ন রেখে গিয়েছে।

৪. "ছিন্নপত্র" শব্দটিকে ইংরেজিতে "ব্রোকেন লেটার্স" হিসেবে অনুবাদ করা যেতে পারে। এটি মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা চিঠির একটি সংকলন। এটি মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যকর্মের একটি অংশ, যার মাঝে রয়েছে কবিতা, গান, প্রবন্ধ, ছোট গল্প ও নাটক। "ছিন্নপত্র" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ব্যাপারে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, সেইসাথে সার্বজনীন ভাবধারাকেও সম্বোধন করে যা এই আজকের দিনেও প্রাসঙ্গিক।

৫. "ছিন্নপত্র: পদ্মা পাড়ে রবীন্দ্রনাথ" চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, আমরা এই অসাধারণ আত্মার জীবন, তাঁর সৃজনশীলতার গভীরতা, তাঁর সত্যের সাধনা ও মানবতার প্রতি তাঁর অদম্য ভালোবাসার অন্বেষণ করার সৌভাগ্য পেয়েছি। এই চলচ্চিত্রটি একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে, যা আমাদেরকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিজ্ঞতার গোলকধাঁধা, প্রকৃতির সাথে তাঁর গভীর সংযোগ এবং সমস্ত সংস্কৃতি ও ধর্মের ঐক্যে তাঁর আন্তরিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে পথ দেখায়।

৬. ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের শিল্পীবৃন্দ, গায়কগণ ও সুরকারদের অবদানে এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। এই যৌথ প্রচেষ্টা আমাদের দুই দেশের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে। এটি সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং মানুষে-মানুষে জোরালো আদান-প্রদানের প্রতিফলন যা আমাদের অংশীদারত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

৭. আমি প্রতিভাবান সকল অভিনয়শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সঙ্গীতশিল্পী এবং যারা এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অবদান রেখেছেন তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের আত্মনিবেদন ও গভীর আবেগের ফলে আমাদের জন্য এই সাংস্কৃতিক সম্পদকে বিশ্বের সাথে সহভাগিতা করা সম্ভব হয়েছে।

৮. পরিশেষে, আজ রাতে আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য আমি আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। একজন ব্যক্তি যে বিশ্বে গভীর প্রভাব ফেলতে পারেন এটা আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে এই সন্ধ্যাটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠুক, এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করুক।