সুরের ধারা আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে হাই কমিশনারের বক্তব্য বিবৃতি ও বক্তৃতা

সুরের ধারা আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে হাই কমিশনারের বক্তব্য

১. রবীন্দ্রসঙ্গীতের এমন সুমধুর পরিবেশনার মাঝে এবং এতো বিশিষ্ট ব্যক্তি, সঙ্গীত অনুরাগী ও পরিবেশবাদী আইনজীবীদের অংশগ্রহণের মধ্যে এই বৃক্ষরোপণ উৎসবে সদয় আমন্ত্রণের জন্য সুরের ধারাকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। এটি একটি দুর্দান্ত উদ্যোগ এবং আমি এর অংশ হতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।

২. আমাকে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান প্রাণবন্ত ও স্থায়ী বন্ধুত্ব পুনর্নিশ্চিত করে শুরু করার অনুমতি দিন। আমাদের দুই দেশের মধ্যে শুধু ভৌগোলিক নৈকট্যই নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালিত গভীর সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনও রয়েছে। আমাদের জনগণের পারস্পরিক সহানুভূতি এবং ১৯৭১ সালের যৌথ আত্মত্যাগ আমাদেরকে বন্ধুত্বের স্থায়ী বন্ধনে আবদ্ধ করে। আমাদের অংশীদারত্ব আজ সহযোগিতার শক্তি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রমাণ, সেইসাথে আমাদের যৌথ বিশ্বাসের প্রতিফলন যে আমাদের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি পরস্পরের সাথে জড়িত।

৩. আমাদের সাংস্কৃতিক সংযোগ এবং আমাদের যৌথ সাংস্কৃতিক পরম্পরা, যেমন রবীন্দ্রসঙ্গীতের ঐতিহ্য হলো দৃঢ় বন্ধনের শক্তি যা আমাদের সম্পর্কের অন্যান্য অনেক দিককে অতিক্রম করে যায়। আর তাই, সাংস্কৃতিক সংলাপ ও শৈল্পিক মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধিতে এবং মানুষে-মানুষে সংযোগকে সমৃদ্ধ করতে এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য সুরের ধারা ও একই জাতীয় সংগঠনগুলো আমাদের বিশেষ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

৪. সংযোগের কথা বলতে গেলে, আমরা যে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাস করি তা লক্ষ্য করার মতো। ভারত ও বাংলাদেশ শুধু দ্বিপাক্ষিক অংশীদারই নয়; আমরা বিশ্বব্যাপী অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া দায়িত্বশীল বিশ্বব্যাপী ভূমিকা পালনকারীও।

৫. এই বছর ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সি চলাকালে, আমরা জি২০-এর অতিথি দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

৬. জি২০-এর অধীনে সম্মিলিত সহযোগিতার চেতনায়, আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মোকাবেলায় ভারত বাংলাদেশ ও অন্যান্য অংশীদারদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে, সেটা জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিই হোক আর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতির পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহই হোক বা জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিই হোক, অথবা সন্ত্রাসবাদের অভিশাপই হোক। আমাদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমরা যে সর্বজনীনতাকে সমর্থন করি তা আমাদের জি২০ প্রেসিডেন্সির নীতিবাক্যে প্রতিফলিত হয় – বসুধৈব কুটুম্বকম, “এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ”।

৭. পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রকৃতির সাথে সহাবস্থান আমাদের জি২০ এজেন্ডার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। আর তাই আমার কাছে আজকের বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান তাৎপর্য যোগ করেছে। এটা শুধু প্রতীকীই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের গ্রহকে রক্ষা করার লক্ষ্যে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। এই চারাগুলো রোপণ করার মাধ্যমে, আমরা একটি সবুজ ও আরও টেকসই ভবিষ্যতের বীজ বপন করছি।

৮. এই বৃক্ষরোপণ উৎসবে যোগদানের সাথে সাথে, আসুন আমরা বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চেতনাও উদ্‌যাপন করি যা আমাদের দুই দেশকে একত্রে আবদ্ধ করে। আসুন, আমাদের বন্ধন জোরদার করতে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সহযোগিতায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখি। আমরা আজ যে প্রতিবন্ধকতাসমূহের মুখোমুখি হচ্ছি তা বিশ্বব্যাপী এবং এর মোকাবেলা করতে সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রয়োজন - এই স্বীকৃতি প্রদান করে আসুন, আমরা আমাদের পরিবেশ রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য আমাদের প্রচেষ্টাসমূহকে পুনরায় দ্বিগুণ করি।

৯. আজ আমাকে এখানে আমন্ত্রণ করার জন্য আপনাদেরকে আবারও ধন্যবাদ। আমাদের অগ্রগতি ও সম্প্রীতির যৌথ যাত্রায় অবিরত অবদানের জন্য সুরের ধারাকে আমার শুভেচ্ছা।

জয় হিন্দ, জয় বাংলা, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী দীর্ঘজীবী হোক!

১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ঢাকা