Remarks by High Commissioner of India, H.E. Ms. Riva Ganguly Das on 550th Birth Anniversary of Shri Guru Nanak Dev Ji  at Gurdwara Nanak Shahi, Dhaka চলমান ঘটনাবলী

শ্রী গুরু নানক দেবজীর ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীতে গুরুদুয়ারা নানক শাহীতে ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলি দাশের বক্তব্য

 

ভারতীয় হাই কমিশন

ঢাকা

শ্রী গুরু নানক দেবজীর ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীতে গুরুদুয়ারা নানক শাহীতে ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলি দাশের বক্তব্য

১৫ নভেম্বর ২০১৯

 

শ্রী পরেশ লাল বেগি সভাপতি বাংলাদেশ গুরুদুয়ারা ব্যবস্থাপনা কমিটি

বাংলাদেশ গুরুদুয়ারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যগণ

ভারতীয় বন্ধুগণ

শিখ সম্প্রদায়ের সম্মানিত সদস্যগণ

ভদ্রমহিলা ও মহোদয়ণ

সত শ্রী আকাল!

গুরু নানক জয়ন্তী ‘গুরুপুরব’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আপনাদের সকলের সাথে যোগ দিতে পেরে আমি আনন্দিত। এই বছর আমরা গুরু নানক দেবজীর ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী পালন করছি।

২. গুরু নানক দেবজী ছিলেন ভারতের অন্যতম সমাজ সংস্কারক দার্শনিক এবং শিক্ষক। তিনি এমন এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন ভারতীয় সমাজে ব্যাপক বর্ণবৈষম্য ছিল গুরু নানকজী মানুষের সাম্যের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি দাসত্ব ও বর্ণবৈষম্যের নিন্দা করে বলেছেন যে সকলেই সমান। তিনি একটি নতুন সাম্যবাদী সমাজ তৈরির পক্ষে সরব হয়েছিলেন।

৩. গুরু নানক দেবজীর ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভারত সরকার বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

২২ নভেম্বর ২০১৮ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সারাদেশে এবং বিশ্বজুড়ে শ্রী গুরু নানক দেবজীর ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের জন্য একটি প্রস্তাব পাস করে। ঐতিহাসিক সুলতানপুর লোধিকে ঐতিহ্যবাহী শহর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ইভেন্টগুলির মধ্যে আরও রয়েছে স্মারক মুদ্রা এবং ডাকটিকিট প্রকাশ। শ্রী গুরু নানক দেবজীর স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলির সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য রেল মন্ত্রক দ্বারা বিশেষ ট্রেনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী বিদেশের সমস্ত ভারতীয় মিশন এবং পোস্টগুলিতে পালন করা হবে।

গুরু নানক দেবজীর ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীর শুভ অবসরে সরকার অত্যাধুনিক করতারপুর সাহিব করিডোর খোলার উদ্যোগ নিয়েছে যাতে ভারত থেকে আসা তীর্থযাত্রীরা এবং বিদেশী ভারতীয় নাগরিক কার্ডধারী ব্যক্তিরা পাকিস্তানের পবিত্র গুরুদুয়ারা করতারপুর সাহিব পরিদর্শন করতে পারেন। ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ভারত ও পাকিস্তান সরকার করতারপুর সাহিব করিডোর চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গুরুদাসপুর জেলার ডেরা বাবা নানক (ডিবিএন) থেকে আন্তর্জাতিক সীমানা অবধি করতারপুর সাহিব করিডোর (কেএসসি) উন্নয়নের অনুমোদন দেয়।

এছাড়াও গুরু নানক দেবজীর বাণী বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং সারা বিশ্বে শিখ ধর্মের শিক্ষা ও দর্শনকে আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অমৃতসরের গুরু নানক দেব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আন্তঃবিশ্বাস অধ্যয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়াও কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গুরু নানক দেব চেয়ার স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউনেস্কোর মাধ্যমে গুরু নানক দেবজীর রচনাগুলো বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গুরু নানক দেবজীর বাণী প্রচারের জন্য এই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

৪. আজ আমরা নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি। গুরু নানকজী ভারতে নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রেখে যাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। গুরু নানকজী তাঁর অনুসারীদের নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাদের সমান হিসাবে বিবেচনা করার জন্য বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে একজন পুরুষ সর্বদা নারীর কাছে দায়বদ্ধ এবং নারী ছাড়া পৃথিবীতে কোনও সৃষ্টি হতে পারে না।

 

৫. গুরু নানকজী মানবজাতির দুর্দশায় ব্যথিত হয়েছিলেন এবং তাঁর জ্ঞান তাঁকে আজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম ও কাজের পথে পরিচালিত করেছিল। তাঁর ভ্রমণ যা ‘উদাসিস’ নামে পরিচিত তা তাঁকে উত্তরে তিব্বত পূর্বে আসাম এবং পশ্চিমে বাগদাদ ও মক্কায় নিয়ে গিয়েছিল। তিনি প্রায় পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় ভ্রমণ করেছিলেন এমন সময়ে যখন ভ্রমণ ছিল মূলত পায়ে মোষের গাড়িতে বা সমুদ্রপথে। ভ্রমণকালে তিনি বিভিন্ন ধর্মের লোকদের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। যুক্তি আন্তরিকতা এবং ভালবাসার মাধ্যমে আলাপচারিতা করে তিনি তাদের জীবন পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি তাঁর অনুগামীদের সমাজের মধ্যে একটি সাধারণ জীবনযাপন করার মাধ্যমে মোক্ষ লাভের পদ্ধতিগুলিও শিখিয়েছিলেন।

 

৬. আমি জানতে পেরেছি যে গুরু নানক দেবজী ঢাকাতে এসেছিলেন এবং বাংলাদেশের আরও কিছু অঞ্চল ঘুরে দেখেছিলেন। আমাকে আরও জানানো হয়েছে যে গুরুদুয়ারা নানক শাহী তাঁর ঢাকা সফরের সাথেও জড়িত। এই জাতীয় স্থান হল সকল বিশ্বাসের মধ্যে সম্প্রীতির জীবন্ত উদাহরণ যেটা আমরা বাংলাদেশে দেখতে পাই। এই বহুসাংস্কৃতিক বহুজাতিগত এবং বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ সর্বদা অব্যাহত থাকা অপরিহার্য কারণ এটিই সেই বাংলাদেশ যার স্বপ্ন একাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন এবং মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এই পবিত্র স্থান সংস্কারে ভারতীয় হাই কমিশন কিছুটা সহায়তা করার সুযোগ পেয়েছে যেটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

 

৭. আমরা প্রার্থনা করি এবং আশা করি যে পৃথিবীতে গুরু নানকের আবির্ভাবের ৫৫০তম বছর উদযাপন মানবতার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধিজনক হবে।

৮. এই গুরুপুরব আমাদের সকলের জন্য এবং ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের জন্য শান্তি সমৃদ্ধি ও আনন্দ বয়ে আনুক। আপনাদের সকলকে দেশের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার জন্য কাজ করার আহ্বান জানাই। এই উৎসবের অংশ হতে পেরে আমি নিজেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান মনে করি।

ওয়াহে গুরুজী কা খালসা ওয়াহে গুরুজী কি ফতেহ।

 

****